মোঃ ইব্রাহিম হোসেনঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তীব্র শীতে বিপাকে পড়া অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৩২নং ওয়ার্ড শাখা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) মোহাম্মদপুরের ৩২নং ওয়ার্ড এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। চলতি মৌসুমে জেঁকে বসা হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় মোহাম্মদপুর এলাকার খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন তাঁদের প্রতি মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কয়েক শতাধিক আর্তমানবতার মাঝে উন্নতমানের কম্বল বিতরণ করা হয়। বিতরণকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, "বিএনপি সবসময় জনগণের দল। দেশে যখনই কোনো দুর্যোগ বা সংকট আসে, আমরা সাধ্যমতো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াই। কনকনে শীতে কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।" কম্বল পেয়ে স্থানীয় এক বৃদ্ধা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "এই শীতে কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি, বিএনপির এই কম্বল আমাদের অনেক উপকার করবে।" শীতবস্ত্র বিতরণের পূর্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের এক আপসহীন সংগ্রামের নাম। তিনি শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা। দীর্ঘকাল কারাবরণ ও নানা শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি কখনো আদর্শের সাথে আপস করেননি।” বক্তারা আরও বলেন, “দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তাঁর ত্যাগ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। তাঁর আদর্শকে পাথেয় করেই আমরা আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাবো।” এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির আহমেদ, ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী বেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সোহেল মোল্লা, সহ-সভাপতি সিমির হোসেন রিমি, দপ্তর সম্পাদক সমীর রায়, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সোনুসহ ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তিকামী জনগণের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে রাজপথে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার দৃঢ় শপথ গ্রহণ করেন।