নিজস্ব প্রতিবেদক
এক এগারোর রাজপথ কাঁপানো লড়াকু ছাত্রনেতা ও ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনের এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ নির্বাসন ও বহিষ্কারের গ্লানি মুছে আবারও দলীয় মূল স্রোতে এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরছেন এই ত্যাগী নেতা—এমন খবরে আনন্দ ও স্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মাঝে।
গতকাল বুধবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের দুঃসময়ে তাঁর ভূমিকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর যে বিশাল জনসমর্থন রয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েছে হাইকমান্ড। সূত্রমতে, অতি দ্রুতই তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে যথাযথ সম্মান ও দায়িত্বশীল পদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় যখন অনেক বড় নেতা আত্মগোপনে ছিলেন, তখন রাজপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এই সাবেক ছাত্রনেতা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রাথমিক দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশে তিনি যে গণজোয়ার তৈরি করেছিলেন, তা এখনও স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে।
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি ছিল সাময়িক আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত এবং দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য কখনোই কমেনি। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকলেও তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশেই ছিলেন।
কালীগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী জানান, “সাইফুল ইসলাম ফিরোজ আমাদের বিপদের সাথী। তাকে দল থেকে দূরে রাখা মানে স্থানীয় বিএনপিকে দুর্বল করে রাখা। তিনি ফিরে আসলে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”
কেন্দ্রীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার মধ্যে অন্যতম। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খবরে ঝিনাইদহের দলীয় কার্যালয়গুলোতে এখন কেবলই উৎসবের আমেজ।