ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার ১২ নম্বর নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের ১১টা টিয়ার, কাবিখা, কাবিখা প্রকল্পে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকার বরাদ্দের সিংহভাগ প্রকল্পের টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছ নিয়োগকৃত প্রশাসক মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে তিনি শৈলকূপা একাডেমিক সুপারভাইজার পদে কর্মরত আছেন। এই সকল প্রথম প্রকল্পে দায় সারা গোসের কাজ করে সিংহভাগ টাকা পকেটস্থ করেছেন ইউনিয়ন প্রশাসক মতিয়ার রহমান। এই প্রকল্পে কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকার লুটপাট ঘটেছে। জুলাই আগস্ট অভ্যুত্থানের পর এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে আর ইউনিয়ন পরিষদে আসতে দেয়া হয়নি। এক বছর চেয়ারম্যান চললেও পরে প্যানেল চেয়ারম্যান কে বাদ দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে পূর্বের উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধ দাস। তারপরেও বিভিন্ন প্রকল্পে চলছে ব্যাপক হরিলুট।
স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় যে ইউনিয়নের টিয়ার প্রকল্পের পীড়াগাতী দীঘলগ্রাম রুপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার স্বরূপ ৪ লক্ষ টাকার বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
উক্ত প্রকল্পে ৪৫ গাড়ি মাটি বিদ্যালয় ছড়িয়ে দিয়ে ৪ লক্ষ টাকার খরচ উঠানো হয়েছে। তাহাতে হিসাব করলে দেখা যায় যে এখানে মাত্র ৫০ হাজার টাকার মত খরচ করে বাকি সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা পকেটরাস্ত করেছে ইউনিয়ন প্রশাসক। যে ব্যক্তি এই মাটি সরবরাহ করেছে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মোতাবেক জানা গেছে। প্রধান শিক্ষকের প্রকল্প প্রদান করা হলেও ইউনিয়ন প্রশাসক শৈলকূপা উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন কম্পিউটার কর্মকর্তা। যার কারণে প্রধান শিক্ষকের বলার মত কিছুই নেই।
বাগুটিয়া বাজার হতে বোয়ালবাড়ি অভিমুখে পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা মেরামত বাবদ ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পে ট্র্যাক্টর দিয়ে চোষে সাইড থেকে কিছু মাটি দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ দেখানো হয়েছে। তাহাতে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ইউনিয়ন প্রশাসকের পকেটস্থ হয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় যে কেমন করে উক্ত প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে।
বকশিপুর বিশ্বাসের বাড়ি থেকে গোরস্থান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে সেখানেও কাজের ব্যাপক নয় ছয় হয়েছে।
শেখরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রুম সংস্কার বাবদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া থাকলে এই টাকায় একটা রুমের ৪ বান্ডিল মত টিন ক্রয় করে ৩টি জানালা মেরামত এবং ভিতরের কাঠের বাটাম দিয়ে কাজ করেছে। যাহা দিয়ে পুরো ঘরটা মেরামত করা যেত। বাকি অংশ ঝড়ে ভেঙে ফেলেছে। এখানেও ৪০ হাজার টাকা মতো ব্যয় করা হয়েছে মাত্র। প্রকল্প প্রধান হিসেবে একজনের নাম দেয়া থাকলেও তার মোবাইল নাম্বার অন্য আরেকজনের।
অশুরহাট পাখি গ্রামের গোল ঘর ও টয়লেট নির্মাণ বাবদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ। যে ঘর জেলা পরিষদ পূর্বেই ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে নির্মাণ করেছে। সেখানে কয়েকটি অ্যাঙ্গেল এবং বাথরুমের দরজা লাগিয়েই ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
ব্যাসপুর আখেরি দোকান থেকে গোরস্থান অভিমুখে রাস্তা ম্যাকাডাম করুন ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। এই রাস্তাটিতে আগেই ইট বিছানা ছিল। এই রাস্তার সাইড না বেঁধেই সেই ইট উঠায়ে কোন রকম ভাবে সাইডে বাঁশ খুঁটি দিয়ে আবার সেই রাস্তা করা হয়েছে। রাস্তাটি অচিরেই বড় বৃষ্টি হলে পাশের গর্তে বিলীন হয়ে যাবে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে সরকার কা মাল দরিয়া মে ঢাল। সরকারি টাকার কোন মা বাপ নেই যেখানে সেখানেই যে কোন ভাবেই খরচ করা যায়। তারপরেও অতি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
বাগুটিয়া ছকাতিপাড়া দারোগার বাড়ি হতে মসজিদ অভিমুখী রাস্তা মেকাডোম করুন যার বরাদ্দ ৪ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পের কাজে আগে থেকেই রাস্তায় ইট বিছানো আছে। মাঝখানে কিছু কাজ করা হয়েছে। তবে যেখানে কাজ করা হয়েছে সেখান থেকে আগের ইট উঠায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো বালি দেওয়া হয়নি। এইভাবেই নয় ছয় করে কোন রকম কাজ শেষ করা হয়েছে। রাস্তা এখনই ভেঙে যাচ্ছে।
প্রকল্পে দায়িত্বে যার নাম লেখা আছে তার নাম মুক্তা। মোবাইলে তার সাথে কথা বললে সে বলে যে আমাকে অফিসে কাগজে সই করতে বলেছে আমি সই করে দিয়েছি প্রশাসক কোথায় কি কাজ করেছে আমি জানিনা। আমি ঝিনাইদা শহরের ৩ নম্বর পানির ট্যাংকের ওখানে বসবাস করি।

শাহবাজপুর কাটাখালের ব্রিজ হতে চর ভবানীপুর কুদ্দুস ফকিরের বাড়ি অভিমুথে ম্যাকাডম করুন প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ পাঁচ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। পড়ে আছে এই রাস্তার সিংহভাগ। কাটাখাল থেকে শুরু করে ১০০ মিটার মতো ম্যাকাডোম করা হয়েছে। কুদ্দুস ফকিরের বাড়ি এখনো অনেক দূর বাকি। তাও ভেঙে চলে যাচ্ছে সামান্য বৃষ্টিতেই।
চর রুপদহ কালু বিশ্বাসের বাড়ি হতে পিকেপিসি গোরস্থান পর্যন্ত রাস্তা এইচবিবি করুন ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। রাস্তায় ইটের মান ভালো তবে ১৫০ মিটার মতো রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বাকি রাস্তা পড়ে আছে।
শেখরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাট প্রকল্পে ৮.৬০০ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এই প্রকল্পেও স্কুল প্রাঙ্গণে নামমাত্র মাটি দিয়ে সমান করে দেয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রেও ব্যয় হয়েছে হাজার ৩০ টাকা মাত্র। বাকি ৪ লক্ষ টাকা ইউনিয়ন প্রশাসকের পকেটস্থ হয়েছে বলে অভিযোগ কারীদের ধারণা।
খালফলিয়া মিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংস্কার বাবদ ৮. ৬০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার বরাদ্দকৃত মূল্য ৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকা। এই প্রকল্পে পুকুর পাড়ে ৩০ গাড়ি মাটি ফেলা হয়েছে এবং টিউবওয়েল বসানো হয়েছে তাতে সর্বসাকুল্যে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মতিয়ার রহমানের পকেটস্থ হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বাগুটিয়া গ্রামের ছকাতিপাড়ার নুর ইসলাম বলেন জনপ্রতিনিধিদের কিছুটা হলেও দায়-দায়িত্ব আছে। যে তাদের পরবর্তীতে ভোট করতে হবে কিন্তু ইউনিয়ন প্রশাসকের জনসাধারণের নিকট কোন দায়িত্ববোধ নাই যার কারণে তার দুর্নীতি লুটপাটের সীমাহীন অবস্থান।
বাগুটিয়া বাজারের এক দোকানদার বলেন ইউনিয়ন পরিষদের এক চৌকিদার বিকালবেলা একটা ট্রাক্টর নিয়ে আসলেন চষে দিলেন আর রাস্তার কাজ হয়ে গেল যার বাজেট ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এক বিকালে একটি ট্রাক্টরের কয়েকজন লেবার দিয়ে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার কাজ শেষ। জনপ্রতিনিধরাও দুর্নীতি করে কিন্তু সেই দুর্নীতির একটা সীমা আছে ইউনিয়ন প্রশাসকের দুর্নীতি সীমাহীন।

এই প্রকল্পের দুর্নীতি লুটপাট প্রসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন প্রশাসক মতিয়ার রহমানের সাথে কথা বললে সে বলে যে শেখরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রুম মেরামতের কাজ এবং চর রুপ দহ কালু বিশ্বাসের বাড়ি থেকে পিকেপিসি গোরস্থান অভিমুখে রাস্তায় এইচবিবি করন পিআইও নিজের তত্ত্বাবধানে করেছে। তবে সমগ্র কাজ পিয়াইসিরা করেছে। প্রকল্পের তালিকায় পিআইসির নাম্বার এলোমেলো প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলেননি। লুটপাট দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি চুপ করেছিলেন কোন উত্তর দেননি।
এই প্রসঙ্গে শৈলকূপা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নিউটন বাইনের সাথে মোবাইলে কথা বললে সে বলেন কাজে অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে প্রথম কিছু ভুল হয়েছিল পরে সেগুলো ঠিক করে দেয়া হয়েছে। আমি অঞ্চলের নতুন আসার কারণে সবগুলো জায়গায় ঠিকমত যেতে পারিনি।