স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর রায়েরবাজারের গোরস্থান সংলগ্ন এলাকায় এক অসহায় দম্পতির মাথাগোঁজার ঠাঁই ভেঙে দেওয়া এবং সেখানে দখলবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগে একটি ঠিকানাবিহীন ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিও সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী ৩৪ নং ওয়ার্ড বেড়িবাঁধ ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ ভান্ডারী ও তার স্ত্রীর সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর এক ভিন্ন ও বাস্তব চিত্র বেরিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ঠিকানাবিহীন ফেসবুক পেজ থেকে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তথ্যে দাবি করা হয়েছিল যে, রায়েরবাজার গোরস্থান সংলগ্ন এলাকায় রাজেশ খান ও তার সিন্ডিকেট ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং কসাই কামাল, আশিক ও শ্রমিক দলের নেতা মো. রুবেল ব্যাপারীসহ অন্যরা এক অসহায় দম্পতির ওপর জুলুম চালিয়ে ঘর ভেঙে দিয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদকের সরেজমিন অনুসন্ধানে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি কথা বলা হয় ভুক্তভোগী সেই পুরুষ ও নারীর সাথে। তারা পরিষ্কার ভাষায় জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। গোরস্থান সংলগ্ন এলাকায় দখলবাজি বা ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং রাজেশ খানসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং তারা কখনোই কারও ওপর কোনো জুলুম করেননি। ভুক্তভোগী দম্পতি আরও অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল তাদের অসহায়ত্বের কথা বলে মূলত নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন ব্ল্যাকমেল ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয়রা মনে করছেন, কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করে এ ধরনের মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অনলাইনে প্রচার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সমাজে ভালো মানুষগুলোর সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকার জন্য এবং এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
৩৪ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসী জানান, ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উক্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশের জনপ্রিয়তা দেখে একটি মহল তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ সালের আগে ৩৪ নং ওয়ার্ডে বিএনপির নাম নেওয়ার বা মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়ার মতো যখন মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন, তখন তারা বিএনপির হাল ধরেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের আগে অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান রেজা দলের নেতাকর্মীদের ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারা কোনো হাইব্রিড বিএনপির নেতা নন।
৩৪ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসী আরও জানান, কিছুদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছে। একটি ঠিকানাবিহীন ফেসবুক আইডি/পেজ থেকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও ফ্ল্যাট দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে সুনাম নষ্ট এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা ৩৪ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসী সফল হতে দেবে না। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ করেছেন।
এব্যাপারে অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশ বলেন, "একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। ৫ আগস্টের আগে কঠিন সময়ে আমরা যখন রাজপথে দলের হাল ধরেছিলাম, তখন এই ষড়যন্ত্রকারীরা ছিল অদৃশ্য। এখন এলাকাবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনে আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে তারা ভীত হয়ে এ ধরনের কাল্পনিক ও বানোয়াট গল্পের অবতারণা করছে। ভুক্তভোগী ৩৪ নং ওয়ার্ড বেড়িবাঁধ ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ ভান্ডারী ও তার স্ত্রী তো সরাসরি নিজেরাই মিডিয়ার সামনে সত্য প্রকাশ করেছে। প্রশাসন ও সচেতন ৩৪ নং ওয়ার্ডবাসীর প্রতি অনুরোধ, আপনারা কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে ছড়ানো এসব গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অপপ্রচারকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।"
মোহাম্মদ ওসমান রেজা বলেন, "আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। গোরস্থান সংলগ্ন এলাকার ঘটনার সাথে আমাদের বা আমাদের নেতাকর্মীদের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। ভুক্তভোগী পরিবার নিজেই মিডিয়ার সামনে সত্য প্রকাশ করেছে। একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রী চক্র সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হীনস্বার্থে এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার শান্তি বিনষ্ট করতে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এলাকাবাসী অতীতেও যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিল, ভবিষ্যতেও এই ধরনের ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।"
শ্রমিক দলের নেতা মো. রুবেল ব্যাপারী বলেন, "আমাদের নাম জড়িয়ে যে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা সবসময় অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। একটি নামসর্বস্ব ফেসবুক পেজ বা আইডি থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে শ্রমিক দল ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সুনাম নষ্ট করার এই অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না। আমরা এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"