নিজস্ব সংবাদদাতা, (শৈলকূপা) ঝিনাইদহঃ
:ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ডিউটি বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। পূজা মণ্ডপে পাহারা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন করার নাম করে সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে 'প্রক্সি' বা বডি চেঞ্জ করে ডিউটি করানোর মারাত্মক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শৈলকূপা উপজেলার ১২৮টি পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তায় মোট ৭৮৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ সদস্য ৫২৮ জন এবং মহিলা সদস্য ২৫৬ জন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারিভাবে আনসার ও ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সার্টিফিকেটধারীদের এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অগ্রাধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক দক্ষ ও সনদধারী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে বাদ দেওয়া হয়েছে। উল্টো ডিউটি তালিকায় নাম তোলা এবং মণ্ডপে পাঠানোর নাম করে স্থানীয় কয়েকজন কমান্ডার সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে সদস্যপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করেছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, যারা টাকা দিতে অস্বীকার করেছেন, সনদ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুধু চাঁদাবাজিই নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একাধিক পূজা মণ্ডপে চলেছে 'বডি চেঞ্জ' বা বদলি ডিউটির মহোৎসব। দেখা গেছে, সরকারি খাতায় যাঁর নামে ডিউটি বরাদ্দ হয়েছে, তিনি নিজে না থেকে টাকার বিনিময়ে অন্য অনভিজ্ঞ বা অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন। এতে মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আনসার সদস্যদের প্রশ্ন, উৎসবের নিরাপত্তায় জীবন ও পোশাকের মর্যাদা রেখে ডিউটি করার বিনিময়ে যে ভাতা পাওয়া যায়, তার শুরুতেই যদি ৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয় এবং ভুয়া লোক দিয়ে দায়িত্ব চালানো হয়, তবে সার্বিক নিরাপত্তার মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যায়।
এ বিষয়ে শৈলকূপা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলাটিতে স্থায়ী কোনো আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নেই। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক প্রতাপ রায়।
ঘুষ গ্রহণ, সনদধারীদের বঞ্চিত করা এবং মণ্ডপে ‘বডি চেঞ্জ’ করে প্রক্সি ডিউটি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রশিক্ষক প্রতাপ রায় জানান, তিনি এসব বিষয়ে অবগত নন। তিনি বলেন, “টাকা আদায় বা অনিয়মের বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা তদন্তে যদি এ ধরনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন ‘না জানার’ জবাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সচেতন মহল ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দাবি, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবেই অসাধু কমান্ডার ও চক্রটি এই সুযোগ নিচ্ছে। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে চাঁদাবাজি ও প্রক্সি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।