স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঝিনাইদহের পাট ব্যবসায়ী মো: হাসান মিয়া বিষপান করেছেন।
বকেয়া টাকা না পেয়ে চরম হতাশা ও আর্থিক কষ্টে রাজধানীর ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিষপান করেছেন মো: আবু হাসান মিয়া নামের এক পাট ব্যবসায়ী।
গত ২০ তারিখে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের মতে তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। ভুক্তভোগী আবু হাসান মিয়া ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা বলে পরিচিত, সামাজিকভাবে সজ্জন ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে রামিম হাসান বলেন, 'বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাহেবের কাছে আমার পিতা মোঃ আবু হাসান মিয়া পাটের টাকা পাবে ১৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৩০ টাকা ২০১৭ সাল থেকে কোনো টাকা দেয়না, কেনো যোগাযোগ করেনা। এপেক্স জুট মিল লিমিটেড সিরাজগঞ্জ এর মালিক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।নিয়মিত ঢাকা অফিসে আসেন আমার বাবা হাসান মিয়া। কিন্তু টুকু সাহেব দেখা করেননা, মোবাইল-ফোন ধরেননা, উনি তার সাথে দেখা করেননা।'
পরিবার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শিয়ালকোলে অবস্থিত 'অ্যাপেক্স জুট মিলস লিমিটেড'-এর কাছে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিজের পাওনা টাকা দাবি করে আসছিলেন আবু হাসান। পাট সরবরাহের বিপরীতে তার এই পাওনা বকেয়া থাকলেও মিল কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ না করে বছরের পর বছর তাকে ঘোরাচ্ছিল। সংযুক্ত ক্যাশ মেমো ও হিসাবের কাগজপত্র অনুযায়ী, অ্যাপেক্স জুট মিলস লিমিটেডের কাছে তার বিভিন্ন চালানে লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে (যেমন: বিল নং ২৫০-এ ৪,২৪,০২৫ টাকা; বিল নং ৭-এ ৪,০৭,৫১৭ঢাকা: বিল নং ৮-এ ৪,১৪,১৪৪ টাকা; বিল নং ৯১-এ ৪,১০,৪৯২ টাকা; বিল নং ১৬-এ ৪,৪৩,০৯৯ টাকা; বিল নং ৮-এ ৪,২৬,২৬৭ টাকা; বিল নং ২৩৩-এ ৪,৮৬,৩৬৪ টাকা ইত্যাদি)। ১৭ বছর ধরে এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া টাকা আদায় করতে না পেরে তিনি দেনাগ্রস্ত ও পরিবার নিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা চাইতে গিয়ে বারবার তিনি অ্যাপেক্স জুট মিলের ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম রতনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ উল্লেখ্য, এই অ্যাপেক্স জুট মিলস লিমিটেডের ম বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মা টুকু।
দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে মানসিক চাপে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে তিনি বিষ করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবু হাসান ও তার পরিবারের দাবি, অবিলম্বে তাদের এই বকেয়া পাওনা টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাদের এই চরম আর্থিক লোকসান ও মানবিক সংকটের থেকে রক্ষা করা হোক।