
স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে আসমা হক (২৭) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে তার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের শামীমা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসমা হক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের আলী হোসেনের মেয়ে।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল প্রসবব্যথা নিয়ে আসমাকে শামীমা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও আসমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়।
স্বজনরা তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলে অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে বুধবার রাতে আবারও তাকে একই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচা আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি করার পর দীর্ঘ সময় কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। নির্ধারিত চিকিৎসক সিজার না করে অন্যভাবে অপারেশন করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। অসুস্থ অবস্থায় রোগীকে বাড়িতে পাঠানো হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও দ্রুত কোনো কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি মৃত্যুর ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পরও বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়নি। বরং পরে ফরিদপুরে রেফার করার কথা বলা হয় এবং ক্লিনিকের কর্মচারীদের অসদাচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ক্লিনিকটির মালিক ডা. শামীমা বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি নেই।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জেলায় একের পর এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কার্যকর নজরদারির অভাবে এসব ঘটনা ঘটছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। জেলার সচেতন মহল এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।