
স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে দেড় মাসের শিশুসন্তানসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “এমন নিষ্ঠুর নজির এ দেশের মানুষ আজ দেখল। যেখানে একজন মাকে তার এক মাস ১৬ দিনের দুধের শিশুসহ পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে মা ও শিশুর মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।”
এদিন দুপুর ২টার দিকে শিল্পী বেগমকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি শিল্পী বেগম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জামিন শুনানিতে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, “আসামির মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এছাড়া শিল্পী বেগমের সম্প্রতি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। মানবিক কারণে যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি।” তবে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন।
বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত থেকে বের করার সময় শিল্পী বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “রাজনৈতিক কারণে আজ দুধের বাচ্চাসহ আমাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল গত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে, আসামি শিল্পী বেগমের নির্দেশে গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় একদল সন্ত্রাসী ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা লুটপাট করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনায় গত ২৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা শাহনূর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
দুধের শিশুসহ একজন মাকে কারাগারে পাঠানোর এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আদেশের সমালোচনা করছেন। সাধারণ জনগণের মতে, দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ একজন মা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়া উচিত ছিল। এটি বিচার ব্যবস্থার সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।