স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে যে, বিএনপি মরলে বা ধ্বংস হলে জামায়াতকেও তার মূল্য দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিকভাবে আবার ফিরে আসে, তবে দেশে যে ভয়াবহ দমন-পীড়ন শুরু হবে, তা এখনকার রাজনৈতিক দলগুলোর কল্পনার বাইরে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের গেস্টহাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠান ও সচিবালয় ঘেরাওকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে এবং সচিবালয় ঘেরাওয়ের নামে মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা সৃষ্টি করে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে তারা প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগেরই রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভাইরাল হওয়া অডিও বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদৌ বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা নিশ্চিত নয়। সম্প্রতি ভারতের একটি কনফারেন্সে তার যে অডিও প্রচার করা হয়েছে, তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কারসাজি কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে তিনি বেঁচে থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “হাসিনা বেঁচে থাকলে দেশে ফিরে আসুক, আমরা তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়ার জন্য বরণ করে নেব।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তাই তাদের পুনর্বাসনের কোনো পথ নেই। এছাড়া কালীগঞ্জের স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন যে, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন চাঁদাবাজি করতে না পারে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এএনএম জোবায়ের, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ, জ্যেষ্ঠ নেতা তবিবুর রহমান মিনিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা।