September 19, 2026, 5:25 pm
শিরোনাম:
মুক্তাগাছায় এসএসসি, দাখিল ও কারিগরী পরীক্ষা-২০২৬ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। সেবারহাটে ‘MENZO’ শপের নতুন আউটলেটের জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধন শিশু সাজিদুর রহমানের ৭ম জন্মদিন উদযাপিত। উ’গ্র’বা’দের ষড়যন্ত্র রুখে জাতীয় জীবনে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হবে। কালিগঞ্জের চরদহা বায়তুল আমান জামে মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শৈলকুপা প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন। কালীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু। আমতলীতে অসুস্থ রশিদ প্যাদার পাশে ‘স্বপ্নছোঁয়া’, পৌঁছে দিল বাজারসামগ্রী। কুবিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি ছাত্রদলের। জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সাজানো হয়েছিল ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা মামলা।
Notice :
দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা কুষ্টিয়ার লালন শাহ ব্রিজের পিলারের সাথে ট্রলারের ধাক্কা লেগে শৈলকু/পার দুইজন সহ তিনজন নিখোঁজ। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের ৬৬% ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৭৫% পদ ফাঁকা অবশেষে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঘুষখোর কর্মকর্তা মুন্তাছির বদলি। হরিনাকুন্ডু উপজেলার কালসংকরপুর গ্রামে মোলাম হোসেন মেম্বারকে কু*পি*য়ে হ*ত্যা কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর | কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হা’ম’লা অভিযোগ ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পুকুর থেকে সরকারী বালক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আরাবীর মৃ*ত*দেহ উদ্ধার অভিনন্দন! স্পেন ফুটবল দলকে যোগ্য দল হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার জন্য এবং ফিলিস্তিনের পাশে থাকার জন্য। শৈলকুপা শহরে সোনার তরী জুয়েলার্সে সোনা ব্যবসার অন্তরালে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা। দোকান থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শুধু হতাশা আর অনাদর

মোঃ মিজানুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার

মোঃ মিজানুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে রয়েছে প্রায় দেড় হাজার যৌনকর্মী। জীবনের শুরুতে যাঁদের রঙিন স্বপ্ন আর অর্থ উপার্জনের জৌলুস থাকলেও শেষ জীবনে তাঁদের ভাগ্যে জোটে অভাব, উপেক্ষা আর বঞ্চনা। এক সময় যে নারীরা ঘরের সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে খদ্দের আহ্বান করতেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই জীবন হয়ে ওঠে বেদনায় ভরা।

পল্লির প্রবীণ কর্মীদের কেউ কেউ খাবারের দোকানে কাজ করছেন, কেউ বা বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিচ্ছেন। সন্তানদের বড় করার পর তারাও অনেক সময় তাদের বাবুদের পেছনে নিজেদের সম্পদ হারিয়ে ফেলে। সন্তানদের শিক্ষাও মাঝপথে থেমে যায়। এমনকি কেউ কেউ সন্তানের মুখে আহার তুলে দিতে না পেরে তাদের বিক্রিও করে দেন বলে জানান পল্লির নারীরা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় রাজিয়া (ছদ্মনাম) নামের এক নারী জানান, এক সময় যৌনপল্লিতে তার দারুণ রোজগার ছিল। তবে এখন বয়সের ভারে আর খদ্দের আসে না। অসুস্থতার কারণে ওষুধ ও খাবারের জন্য তাকে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। রাজিয়া বলেন, “এক সময় পেছনে তাকাইনি, ভবিষ্যতের চিন্তাও করিনি। এখন আয় নেই, খদ্দের নেই, বাবু নেই। পেট তো থেমে থাকে না, তাই হাত পাততে হয়।”

ফিরোজা বেগম (ছদ্মনাম) নামের আরেক নারী বলেন, “আমাদের জীবনটা শুরুতে রঙিন হলেও শেষটা খুবই করুণ। যারা আমার বয়সী, তাদের সবার একই অবস্থা। পল্লিতে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত যৌনকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। মায়ের হাত ধরে পেশায় আসা কিশোরীর সংখ্যা ৩৫০ জনের মতো। এখনও পল্লিতে শিশু যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করছে প্রায় ২০ জন, যা আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা থেমে নেই। যৌনপল্লিতে নানা সামাজিক সমস্যা ও অসুস্থতা বিরাজমান। সম্প্রতি এক ৩৭ বছর বয়সী নারী এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর তার চিকিৎসা শুরু হলেও তিনি বারবার ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলো সচেতন করলেও সাড়া মিলছে না।

পল্লির মেয়েদের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে ‘সুখপাখি সেন্টার’ নামের একটি সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যকর্মী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা প্রতিটি মেয়েকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি। কিন্তু তারা বাইরের দালালের খপ্পরে পড়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে। এতে মেয়েদের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অসহায় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী ফরিদা পারভীন বলেন, “আমরা মেয়েদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। চাই, তারা বিকল্প পেশায় গড়ে উঠুক। কিন্তু অর্থ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সহযোগিতা মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। পল্লির মেয়েরা জানান, মৃত্যুর পর তাদের জানাজা পর্যন্ত হয় বিলম্বে। স্থানীয় ইমামরা নানা অজুহাতে আসতে চান না। পরে প্রশাসনের চাপ বা এনজিওদের অনুরোধে তাঁরা জানাজা পড়ান। দাফন কাজও অনেক সময় করতে হয় শিশু-কিশোরদের।

একই সঙ্গে পল্লিতে চক্রবদ্ধভাবে চলে দালালি ও ঋণের ফাঁদ। সন্তান গর্ভে আসার পর খদ্দের আসা বন্ধ হলে মেয়েরা চরম সংকটে পড়েন। ওষুধ, খাবার, ঘরভাড়ার টাকা জোগাতে গিয়ে এক সময় সন্তান বিক্রির মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন অনেকে। এ কাজেও রয়েছে সিন্ডিকেট ও দালালচক্র। পল্লিতে কাজ করা সংস্থাগুলোর মতে, এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ নারী কোনো না কোনো মাদকে আসক্ত। ফলে আয় করা টাকার বড় অংশ চলে যায় নেশার পেছনে এবং বাকি অর্থ চলে যায় ‘বাবুদের’ হাতে। পল্লিতে সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নারীদের জীবনে নেমে আসে দুঃসহ পরিণতি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দৌলতদিয়ার যৌনপল্লির এ চিত্র থেকে উত্তরণে দরকার টেকসই পরিকল্পনা, নিরাপদ ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং মেয়েদের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা। তা না হলে এ ‘রঙিন’ জীবনগুলো হারিয়ে যাবে চিরতরে অন্ধকারে।



error: Content is protected !!