October 27, 2026, 8:41 am
শিরোনাম:
অ্যাডভোকেট মাসুম খানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ। মনাকষা সীমান্তে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ”পরিচালনা শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবি। শৈলকূপায় ডোপ টেষ্টে ২ জনের শরীরে প্রমাণ পাওয়া গেল মাদকের। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ নুর আলমের শুভেচ্ছা। ঝিনাইদহে লং মার্চ সফল করতে মধুহাটীতে জামায়াতের জনশক্তি সমাবেশ। ঝিনাইদহ জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব হলেন সাকিব রানা। এনসিপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন ঝিনাইদহের উদীয়মান নেত্রী শাহরিন ইরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঝিনাইদহের পাট ব্যবসায়ীর বিষপান। শৈলকূপায় দুর্গাপূজার ডিউটিতে আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ, ‘জানেন না’ কর্মকর্তা। শৈলকুপায় ১২৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব: নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে বিশেষ পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশিক্ষক প্রতাপ রায়।
Notice :
শৈলকুপায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভ্রূম্যমান আদালতের অভিযান: ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা!… ঝিনাইদহে ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কথিত সাংবাদিক আটক” শৈলকূপা উপজেলা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভুয়া আনসার সদস্য দিয়ে পূজা মন্ডপের ডিউটি চলমান। মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৫নং ফুলহরি ইউনিয়ন সুব্রত দধি মিষ্টি ভান্ডারে মিষ্টি বাকি না দেয়ার কারণে সুব্রত উপরে ও তার মায়ের উপরে হামলা! ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ম/রদে/হ উ/দ্ধার দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা কুষ্টিয়ার লালন শাহ ব্রিজের পিলারের সাথে ট্রলারের ধাক্কা লেগে শৈলকু/পার দুইজন সহ তিনজন নিখোঁজ। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের ৬৬% ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৭৫% পদ ফাঁকা অবশেষে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঘুষখোর কর্মকর্তা মুন্তাছির বদলি।

ঘুষ নয় নির্ধারিত ফি”র দাবি করেছে রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এর আহ্বায়ক — অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা

হাকিকুল ইসলাম খোকন

হাকিকুল ইসলাম খোকন
মানুষের জীবনে কিছু কাগজপত্র শুধু কাগজ নয়; এগুলো তার পরিচয়, অধিকার এবং নাগরিক মর্যাদার অংশ। জন্ম সনদ তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একজন মানুষের জন্ম, পরিচয়, নাগরিকত্ব, শিক্ষা, পাসপোর্ট, চাকরি, সম্পত্তি, উত্তরাধিকারসহ জীবনের বহু প্রয়োজনীয় কাজের সঙ্গে জন্ম সনদের সম্পর্ক রয়েছে। তাই জন্ম সনদ পাওয়া বা ডিজিটাল করা নাগরিকের মৌলিক প্রশাসনিক অধিকার।খবর আইবিএননিউজ।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, অনেক সময় এই সাধারণ অধিকার পেতে গিয়েও মানুষকে অনিয়ম, হয়রানি, মিথ্যা কথা, দালালি এবং ঘুষের মুখোমুখি হতে হয়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক এডভোকেট এএনএম ঈসা নিজের জন্ম সনদ ডিজিটাল করার জন্য ১৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে বাপসনিউজকে জানিয়েছেন।যদি এই টাকা সরকার নির্ধারিত বৈধ ফি হয়, তাহলে তা পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। আর যদি এটি ঘুষ হয়, তাহলে এটি শুধু বেআইনি নয়, মানব জাতির বিবেক, ঈমান এবং নৈতিকতার বিরুদ্ধেও একটি বড় পরীক্ষা।
তিনি বলেছেন , পাপ বাড়াতে চাই না। আমি ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে চাই না। কারণ ঘুষ দেওয়া যেমন পাপ, ঘুষ নেওয়াও পাপ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, টাকা না দিলে যদি কাজ না হয়, তাহলে একজন সাধারণ মানুষ কী করবে? সে কি নিজের অধিকার পাওয়ার জন্য ঘুষ দেবে, নাকি কাজ বন্ধ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এই অবস্থাই মানুষকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়।
তাই আমি বলছি, প্রয়োজন হলে সরকারিভাবে জন্ম সনদের ফি ১৫০০ টাকা করা হোক। তাহলে মানুষ অন্তত জানবে যে সে বৈধ ফি দিচ্ছে, ঘুষ দিচ্ছে না। আর যদি সরকারি নির্ধারিত ফি কম হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোকে বাধ্য করা হোক যেন সেই নির্ধারিত ফিতেই কাজ সম্পন্ন করে। মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। নাগরিককে ঘুষের পথে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
আমার বক্তব্য খুব পরিষ্কার:
ঘুষের নামে টাকা নয়, সরকারি রসিদের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি চাই।
অন্যায় নয়, বৈধ ব্যবস্থা চাই।
দুজোখের আগুন নয়, বৈধ পথ চাই।
আমি “তোআ-আতো” নীতি বা তরিকার একজন বিশ্বাসী। “তো” মানে তোমার, “আ” মানে আমার। অর্থাৎ:
তোমারটা তোমার, আমারটা আমার।
তুমি আমার পাওনা নেবে না, আমিও তোমার পাওনা নেব না।
তুমি আমার অধিকার নষ্ট করবে না, আমিও তোমার অধিকার নষ্ট করব না।
এই নীতির মূল শিক্ষা হলো, মানুষের নেয‍্য পাওনা,সম্পদ, অধিকার ও আমানতের প্রতি সম্মান দেখানো। একজন নাগরিক জন্ম সনদ পাবে, এটি তার অধিকার। কোনো কর্মকর্তা যদি সেই অধিকার আটকে রেখে, টাকা দাবি করেন, তাহলে তিনি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম করছেন না; তিনি মানুষের পাওনা নষ্ট করছেন। আর মানুষের হক নষ্ট করা ধর্মীয়য দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়।
শুধু এবাদত ও আর্শিবাদ করলেই যথেষ্ট নয়, যদি মানুষের পাওনা নষ্ট করা হয়। মানুষের পাওনা এমন বিষয়, যা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষমা না করলে সেই দায় থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। সুতরাং পাওনা আদায় করতে না পারলে আপনি কোনদিনই বেহেস্তে যেতে পারবেন না l তাই অন্যের পাওনা নেওয়া, ঘুষ নেওয়া, ঘুষ দিতে বাধ্য করা, অধিকার আটকে রাখা—এসব শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; এগুলো হিসাবের বিষয়।
আমার আব্বা হজে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, তাঁর ৩০,০০০ টাকা ঋণ আছে। তিনি ঋণমুক্ত হয়ে হজে যেতে চেয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। আজ আমি কৃতজ্ঞ যে আমার আব্বার মনেও মানুষের হক আদায় করার এমন নৈতিকতা ছিল। আজ আল্লাহ পাক আমাকে হক, হালাল এবং ন্যায়ের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই কথাগুলোকে ইবাদতের অংশ হিসেবে কবুল করেন।
এই কারণেই আমি তওবা কমিশনের কথাও বলি। তওবা কমিশনের উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং মানুষকে সতর্ক করা, ভুল থেকে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া এবং সমাজের নেতা, প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মনে করিয়ে দেওয়া—ক্ষমতা মানুষের হক নষ্ট করার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য।
জন্ম সনদের মতো সাধারণ একটি কাজে যদি মানুষ ঘুষ দিতে বাধ্য হয়, তাহলে সমাজে নৈতিকতা কীভাবে থাকবে? একজন মানুষ যখন নিজের বৈধ অধিকার পেতে ঘুষ দেয়, তখন সে ভিতরে ভিতরে কষ্ট পায়। সে জানে, এটা ঠিক নয়। কিন্তু ব্যবস্থা তাকে অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়। এই অন্যায় বন্ধ করতে হলে সরকারকে স্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার প্রস্তাব হলো:
সরকারি ফি যত, তা অফিসে বড় করে লিখে টানিয়ে দিতে হবে।
প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দালাল ও অতিরিক্ত টাকা দাবিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অনলাইনে পেমেন্ট ও আবেদন ব্যবস্থা সহজ করতে হবে।
যে কর্মকর্তা নির্ধারিত ফি ছাড়া কাজ করবেন না, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আর যদি বাস্তবে খরচ বেশি হয়, তাহলে ফি সরকারিভাবে বাড়ানো হোক, যাতে মানুষ ঘুষ না দিয়ে বৈধভাবে টাকা দিতে পারে।
আমরা ঘুষ চাই না। আমরা অন্যায় চাই না। আমরা এমন ব্যবস্থা চাই, যেখানে নাগরিক তার অধিকার পাবে, কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালন করবে, আর কেউ কাউকে পাপের পথে ঠেলে দেবে না।
“তোআ-আতো” নীতির আলোকে আমার আহ্বান:
তোমারটা তোমার, আমারটা আমার।
মানুষের হক নষ্ট করো না।
ঘুষ নয়, বৈধ ফি নাও।
শেষ পর্বে জন্ম সনদের ফি ১৫০০ টাকা করতে হলে সরকারিভাবে করা হোক। আর যদি তা নির্ধারিত ফি না হয়, তাহলে ১৫০০ টাকা দাবি বন্ধ করা হোক। কারণ মানুষকে ঘুষ দিতে বাধ্য করা মানে তাকে পাপের পথে ঠেলে দেওয়া।



error: Content is protected !!