
টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা বাজারে একটি স্বর্ণের দোকানে অতর্কিত হামলা, মারধর, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. শরিফ শিকদার (৪৫) বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনকে আসামি করে টঙ্গিবাড়ী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে নাম উল্লেখ করা অভিযুক্ত আসামিরা হলেন:মো. মেহেদী শিকদার (৩৫), পিতা: মোতালেব শিকদার, সাং: উত্তর বেতকা। মো. অন্তু শেখ (৩২), পিতা: মৃত অখিল উদ্দিন শেখ, সাং: দক্ষিণ বেতকা। মো. ইয়াছিন শিকদার (৩৫), পিতা: মৃত নুর হোসেন শিকদার, সাং: উত্তর বেতকা। মো. রহিত বেপারী (৩২), পিতা: ফরিদ বেপারী, সাং: দক্ষিণ বেতকা। মো. দিপু শিকদার (৩০), পিতা: মৃত বাবুল শিকদার, সাং: উত্তর বেতকা। মো. টিপু শিকদার (৩০), পিতা: মৃত বাবুল শিকদার, সাং: উত্তর বেতকা। মো. শাকিল শিকদার (৩১), পিতা: জাহাঙ্গীর শিকদার, সাং: উত্তর বেতকা। (অভিযুক্ত সকলেই মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানাধীন বেতকা ইউনিয়নের বাসিন্দা)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উত্তর বেতকা এলাকার মো. শরিফ শিকদার দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে বেতকা বাজারে ‘মেসার্স শিকদার স্বর্ণ শিল্পালয়’ পরিচালনা করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে তাঁর দোকানের সামনে থাকা অভিযুক্তদের সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার/পোস্টার কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলে। ওই ব্যানার ছেঁড়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অভিযুক্তরা ব্যবসায়ী শরিফ শিকদারকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা অনুমান ৬টা ৩০ মিনিটে ৩ নম্বর অভিযুক্ত মো. ইয়াছিন শিকদারের হুকুমে অপর অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত আরও ৪–৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দা, ছোড়া, লোহার রড, কাঠের ডাসা ও হকিস্টিক নিয়ে দোকানে অনধিকার প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মেরে এবং লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে।
এ সময় ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. মেহেদী শিকদার দোকান থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ১৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং ২ নম্বর অভিযুক্ত মো. অস্ত্র শেখ ক্যাশ থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে বলা হয়।
ব্যবসায়ীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় ব্যানার ছেঁড়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবি করে এবং তা না দিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দায়ের করেন।