ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে থানায় আটকে রেখে ‘মিথ্যা’ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লার অপসারণ এবং কারাবন্দি সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ সোমবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।
জানা গেছে, ‘বাংলা এডিশন’-এর জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামকে গত রবিবার থানায় ডেকে আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে টানা ১৪ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে তার নিজের দাদার হত্যা মামলায় আসামি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সাংবাদিকদের দাবি, পেশাগত আক্রোশ থেকে তাকে এই মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে ‘বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে সাংবাদিকরা প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
দৈনিক এদিন প্রতিনিধি সুজন বিপ্লবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন: সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবির বলেন, “একজন সংবাদকর্মীকে থানায় ডেকে নিয়ে এভাবে সাজানো মামলায় ফাঁসানো স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।” জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির অবিলম্বে ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লার অপসারণ দাবি করে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক, ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুলতান আল এনাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও তার স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক শোকের মুহূর্তে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে এই হয়রানি করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সাংবাদিক নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে মুক্তি না দিলে এবং বিতর্কিত ওসিকে অপসারণ করা না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ ব্যাপারে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।