সচেতনতা শুধু শোনার বিষয় নয়—সচেতনতা এমন একটি শিক্ষা, যা মানুষের জীবন ও আচরণে পরিবর্তন আনে।
স্টাফ রিপোর্টার:ঝিনাইদহ
Update Time :
Wednesday, September 30, 2026
/
স্টাফ রিপোর্টার: ঝিনাইদহ
গতকাল ২৯/০৯/২০২৬ তারিখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদক, অনলাইন জুয়া, আত্মহত্যা, যৌন হয়রানি, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অনুষ্ঠিত হলো একটি প্রাণবন্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক সভা।
স্থান: বাজার গোপালপুর স্কুল ও কলেজ, মধুহাটি, ঝিনাইদহ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মিথিলা ইসলাম উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটি কাছ থেকে দেখার ও শোনার সুযোগ হয়েছে।
বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নাটিকা, মোটিভেশনাল বক্তব্য, পুরস্কার বিতরণ—প্রতিটি পর্বেই ছিল আলাদা প্রাণবন্ততা। জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বিশেষ করে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও চিত্ত মিডিয়ার কর্ণধার জুয়েল রানার মোটিভেশনাল বক্তব্য ছিল প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। তাঁর উপস্থাপনা ও বক্তব্য অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
আরেকটি বিষয় আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে—মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় শিক্ষার্থীদের একেবারে কাছে গিয়ে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে কথা বলেছেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এমন সরাসরি ও আন্তরিক যোগাযোগ অনুষ্ঠানটিতে একটি নতুনত্ব এনে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমিয়ে আরও সহজ ও ইতিবাচক যোগাযোগের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, নারীদের স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে ডাঃ মিথিলা ইসলামের আলোচনা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সময়োপযোগী ও সচেতনতামূলক। একজন দর্শক হিসেবে তাঁর বক্তব্যটি মনোযোগ দিয়ে শোনার সুযোগ হয়েছে।
তবে পুরো আয়োজনটি দেখে আমার ব্যক্তিগত একটি পর্যবেক্ষণ মনে এসেছে—এটি কোনো সমালোচনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ আয়োজনকে আরও কার্যকর করার একটি বিনীত প্রস্তাব।
আমরা মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, আত্মহত্যা কিংবা যৌন হয়রানির মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কথা বলি। কিন্তু এসব সমস্যা মোকাবিলায় সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থ শরীর ছাড়া সুস্থ মন তৈরি করা কঠিন, আর সুস্থ মন ছাড়া একজন শিক্ষার্থী, পরিবার কিংবা সমাজের জন্য ইতিবাচক ও মঙ্গলজনক ভূমিকা রাখা আরও কঠিন।
তাই আমার মনে হয়েছে, এ ধরনের বহুমাত্রিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক আলোচনা প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই, অগ্রাধিকার দিয়ে উপস্থাপন করা হলে অংশগ্রহণকারীরা পরবর্তী আলোচনাগুলো আরও সচেতনভাবে গ্রহণ করতে পারে। কারণ স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষ যদি আগে জানতে, বুঝতে ও নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারে, তাহলে সামাজিক সচেতনতার অন্যান্য বিষয়গুলোও তার কাছে আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।
একজন সাধারণ দর্শক ও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মী হিসেবে এটি শুধুই আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা, আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
এমন আয়োজন যত বেশি হবে, তত বেশি মানুষ জানবে, বুঝবে এবং সচেতন হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।