
মোঃ লিটন হোসেন ঝিনাইদহঃ
সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘মব’ করে ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া মশাল মিছিলটি শহরের এইচএসএস সড়ক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ওয়াজির আলী স্কুলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ঝিনাইদহ জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি কমরেড স্বপন বাগচী। সিপিবি ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপুর সঞ্চালনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুল ইসলাম আসাদ।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনক আক্রমণ। নেতৃবৃন্দ এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি লড়াই করেছে, রক্ত দিয়েছে, পার্টির বহু নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও মুক্তিভবন ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালাতে এসেছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছে। এই গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে চলমান সংগ্রামের শত্রু।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, হামলা চালিয়ে, ভয় দেখিয়ে এ দেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যাবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে অদ্যবধি সন্ত্রাস করে কেউ সিপিবির সংগ্রামকে দমন করতে পারেনি। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দায়িত্ব পালন করবে কি করবে না, তা দেখে জনগণ দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাদের করণীয় নির্ধারণ করবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার সংকুচিত করে ভিন্নমত ও প্রতিবাদ দমন করার প্রবণতা দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।