বরিশাল প্রতিনিধি
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কামদেবপুর গ্রামে এক রাজমিস্ত্রীর পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে দেড় বছরের এক শিশুসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এনসিপির নলছিটি উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক রাকিব ফকিরের নেতৃত্বে ৮–১০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রামদা, দা, চাপাতি, রড ও লাঠি নিয়ে রাজমিস্ত্রি জুলহাস হাওলাদারের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় জুলহাস হাওলাদার, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার ও পুত্র জিহাদ গুরুতর আহত হন। দেড় বছরের কন্যা জিদনীও আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাদের কে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষেও ভয়ে ফিরতে পারছেন না নিজ বাড়িতে থাকছেন শসুর বাড়িতে। ভুক্তভোগী জুলহাস হাওলাদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। হামলায় ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয় এবং বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।রাকিব ফকির ও তার পিতা আহমদ ফকিরসহ তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে ভিটাছাড়া করার হুমকি দিয়ে আসছেন। তার স্ত্রী শিরিন আক্তার বলেন, আমরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এলাকায় গেলে স্বামীকে হত্যা হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাকিব ফকির ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তারা দাবি করেন, জুলহাস রাজমিস্ত্রি কাজ করে সংসার চালান এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবুও তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। হামলায় অভিযুক্তরা নগদ ৩৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, শিশুর এক ভরি ওজনের চেইনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে এবং বসতঘর ভাঙচুর করে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগ অস্বীকার মোঃ রাকিব ফকির বলেন, আমরা কেনো তাদের উপর হামলা করবো তারা আমার মা বোনের উপর গত ডিসেম্বরের ২ তারিখে হামলা করে। আমরা সেকারনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি তাদের কে পুলিশ খুঁজছে, সে কারনে তারা নিজেদের পরিবারের মধ্যে নিজেরা হামলা করে আমাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করেছেন। সে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন গ্যাংয়ে জড়িত আমরা নতুন বন্ধোবস্ত চাই সে কারনে আমার পরিবারের ওপর হামলা করেন। এছাড়াও তিনি তার বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ করেন। মোল্লারহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, “রাকিব ফকিরের মামলায় ১জন আসামী বাদে সকলে জামিনে রয়েছেন। তবে জুলহাস হাওলাদারের মামলার কাগজ এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। পৌছালে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।