ডেস্ক রিপোর্টে –
পাউরুটি, বিস্কুট, কেক আর মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল আসে। কিন্তু এসব মুখরোচক খাবার যেখানে তৈরি হচ্ছে, সেই পরিবেশের চিত্র দেখলে খাওয়ার রুচি হারিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। শহরের অলিগলিতে গড়ে ওঠা অধিকাংশ বেকারি কারখানায় চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্যপণ্য, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের কোনো জোরালো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। নোংরা পরিবেশ ও বিষাক্ত উপকরণ সরেজমিনে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন হাটখোলার তাজনুর বেকারি ঘুরে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা আর মাছি ভনভন করছে। শ্রমিকরা খালি হাতে আটা-ময়দা মাখছেন। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খেলে দীর্ঘমেয়াদী পেটের পীড়া, কিডনি জটিলতা এমনকি ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা এসব বেকারির খাবারের প্রধান ভোক্তা হওয়ায় তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বেকারি মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও কয়েকদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে যায়। নিয়মিত মনিটরিং ও লাইসেন্স পরীক্ষার কোনো বালাই নেই। এলাকাবাসীর ভাষ্য: “আমরা জানি খাবারগুলো নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে, কিন্তু হাতের কাছে বিকল্প নেই বলে বাধ্য হয়েই কিনতে হয়। প্রশাসন যদি নিয়মিত অভিযান চালাত, তবে মালিকরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য হতো।” জনসাধারণের দাবি, অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ ও নোংরা বেকারিগুলোতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হোক। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর জরিমানার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।