
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি দখল, কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী শৈলকুপা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত খসরু পারভেজ শৈলকুপা উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (কৃত্রিম প্রজনন) পদে কর্মরত। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, জমি দখল, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ষড়যন্ত্রের শিকার বলে জানিয়েছেন।
শৈলকুপা থানায় একটি অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা উপজেলার হিতামপুর গ্রামের মৃত শরিফুল ইসলামের ছেলে ওমর বিশ্বাস একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের প্রজনন বিভাগের ফিল্ড অফিসার খসরু পারভেজের কাছে ১৮ শতক জমি দশ হাজার টাকায় বন্দুক রাখেন। বন্দুকের অজুহাতে খসরু পারভেজ ভুক্তভোগীর জমি দখল করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের নামে দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। ভুক্তভোগী ওমর বিশ্বাস বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শৈলকুপা বাজারে খসরু পারভেজের সঙ্গে আমার দেখা হলে আমি তাকে বন্দুকের টাকা ফেরত নিয়ে জমি বুঝিয়ে দিতে বললে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। যেকারণে আমি নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত খসরু পারভেজ ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তার আত্মীয়-স্বজনদের সম্পত্তি নিয়েও নানা অনিয়ম করে আসছেন। বিভিন্ন আত্মীয়ের জমি দখল ও জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হিতামপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসান খসরু নিজ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে চাকরি করায় গ্রাম ও রাজনৈতিকমহলে তার অনেক প্রভাব রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা থাকলেও কেউ তার ভয়ে কথা বলতে পারেনা। সম্প্রতি তার ছোট চাচা শহিদুল ইসলাম বাবুর মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের জমি রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে। তাদের দাবি, অভিযুক্ত খসরু পারভেজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অনেক অসহায় মানুষ তার হাত থেকে রেহাই পাবে। এদিকে শৈলকুপা উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের একাধিক কর্মচারী তার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি চাকরির প্রভাব ব্যবহার করে নিজ উপজেলায় পোস্টিং নিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন খসরু পারভেজ। তিনি অফিসের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে পূর্বে যিনি ফিল্ড অফিসার পদে দায়িত্বে ছিলেন তার বদলি নিশ্চিত করে নিজে শৈলকুপায় যোগ দেন। এতে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্যের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া গ্রামের সাধারণ গরু মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে তিনি ঘুষও গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসে।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খসরু পারভেজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যা অভিযোগ করা হচ্ছে তার কোনোটির সাথেই আমি জড়িত নেই। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আমার চাচাতো ভাই। জমি নিয়ে সমস্যার বিষয়টি পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আতিকুজ্জামান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শৈলকুপা উপজেলা অফিসের ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, জমি দখল ও হুমকির একটি অভিযোগ থানায় দায়ের হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।