বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
প্রিয় শৈলকুপাবাসী,
আসসালামু আলাইকুম, আপনারা ইতোমধ্যেই জেনেছেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএপি মনোনিত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আমি আপনাদের আসনে একজন প্রার্থী। এই নির্বাচনে আমার কিছু কথা, কিছু প্রত্যাশা, কিছু স্বপ্ন এবং কিছু বাস্তবতা তুলে ধরে ক’টি কথা আপনাদেরকে বলতে চাই। প্রথমে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত বীর শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা আজ গর্বিত বাংলাদেশী। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তৎকালীন রাজনৈতি ব্যাক্তিদের যারা মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছি মহান মুক্তিযোদ্ধাদের যারা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের একটি ভুখন্ড এবং একটি মানচিত্র উপহার দিয়েছিলেন। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বিগত ১৭ বছরের অধিক সময় ধরে যারা গনতন্ত্রের জন্য খুন-গুম-মিথ্যা মামলার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ভিকটিম হয়েছেন। বিশেষভাবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছি ২০২৪ এর ‘জুলাই বিপ্লব’ এ নিহত, আহত, নির্যাতিত এবং বিজয়ী মানুষদের যাদের রক্তঋণে আমরা আজ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছি। কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি বিএপির স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য সহ জনাব তারেক রহমানকে যাঁরা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন এই কথাগলো বলছি, তখন আমার সামনে ভেসে উঠছে এই শৈলকুপার পূর্ববর্তী সাবেক সকল সংসদ সদস্যদের মুখচ্ছবি যাদের প্রত্যেকের অবদানে আমাদের শৈলকুপায় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
প্রিয় শৈলকুপাবাসী,
গড়াই-কালী-কুমারের পানিতে অবগাহন করা উর্বর ভূমি, শস্য-শ্যামল সোনালী ফসলের মেঠোপথের গ্রামগুলোর সমন্বয়েই আমাদের সবার চিরচেনা শৈলকুপা। ৩৭২.৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আমাদের প্রিয় এই শৈলকুপার ২৮৯টি গ্রাম আছে যা ১৪টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ভাগ করা হয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২৫২৭৮। ১১৭টি ভোট কেন্দ্রে ৫৬৬টি বুথে আপনাদের ভোট হবে। এটাই আমাদের শৈলকুপা, এটাই আমাদের পরিবার। আমি এই পরিবারের মধ্যবয়সী একজন সদস্য। আপনাদের সামনে ভোট চাইতে আসার আগে আইন পেশার অন্যতম কাংখিত পদ ‘বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল’ এর পদ ছেড়ে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, ওশেনিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে আমার উপলব্ধি হয়েছে, দেশ গড়ার জন্য, পরিবর্তনের জন্য, সমস্ত অশুভের বিরুদ্ধে শুভ প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিই একমাত্র পথ না হলেও রাজনীতি অন্যতম প্রধান পথ। সেই ধারনা থেকেই আমি নির্বাচনী রাজনীতির পথে এসছি, জীবনের অনিশ্চয়তার পথ ধরে হাটতে এসেছি, আপনাদের নিকট আশ্রয় নিতে এসেছি। আমি বিশ্বাস করি শৈলকুপার এই আলো-বাতাস এবং এই চিরচেনা মুখগুলোর চেয়ে আমার আর আপন কউ নেই, আলোলাগা, ভালোবাসার কোন মানুষ নেই।
প্রিয় শৈলকুপাবাসী,
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, শিক্ষা-দীক্ষা, চাকুরী, ব্যবসা-বানিজ্য, সংস্কৃতি এবং উন্নত রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য শৈলকুপা ছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ঈর্ষান্বিত এক জনপদ। শৈলকুপা ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, ভোটাধিকার চর্চা এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে এক নিবিড় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সহমত প্রকাশের অন্যতম এক লোকালয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি হয় অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতনের প্রতিবাদে জ্বলে ওঠা কোন দ্রোহ, তাহলে আমি বলব যে কোন রাজনৈতিক কর্মীর আচরণ, দাপট, নির্যাতন, ক্ষমতায় টিকে থাকার হিংস্রতা, কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই আমি একটি থেকেই আমি একটি স্বচ্ছ, বিনয়ী, সৎ, এবং দক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের সমন্বয়ে ঈর্ষা করার মতো সাংগঠনিক টিম গঠন করে শৈলকুপার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাই।
প্রিয় শৈলকুপাবাসী,
একজন প্রার্থী হিসেবে আমার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং প্রতিশ্রুতি কি হবে সে সম্পর্কে আপনাদের জানার আগ্রহ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। একটা রাজনৈতিক দলের বা জোটের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলবো আমার দল বিএনপি এবং এর জোট কতৃক ঘোষিত নির্বাচনী ইস্তেহারই আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এছাড়াও আমি আপনাদেরকে এমন একটি শৈলকুপা উপহার দিতে চাই, যেখানে সুশাসনই হবে প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক কারণে কউ যাতে মিথ্যা মামলা, হামলা কিংবা ঘরবাড়ি ছাড়া না হয়, সেটাই হবে আমার অন্যতম ব্রত। এখানে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ রাজনীতি এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ তৈরী করতে আমি নিরন্তর ভাবে কাজ করে যাব। এখানে উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত প্রতিটি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত শৈলকুপা গড়বো। আমি স্বপ্ন দেখি শৈলকুপার প্রতিটি বিদ্যাপীঠ শিক্ষার সর্বোত্তম সুযোগ-সুবিধা ও মেধা বিকাশের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাক। এখানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ মানবিক মূল্যবোধকে আমি বিকশিত করার স্বপ্ন দেখি। আমার স্বপ্নের কেন্দ্র বিন্দুতে আছেন ছাত্র, তরুন ও যুবসমাজ, যাদের চাকুরী কিংবা যথাযথ কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে আমার অহংকার করার মতো লক্ষ্য। আমি কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড ইস্যু করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি বিপ্লবের পদক্ষেপ নিতে চাই। এর পাশাপাশি ব্যাবসা-বানিজ্য, রিক্সা ভ্যানসহ সকল শ্রমজীবী মানুষের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য। চাঁদাবাজ, দখলবাজ-মাদকমুক্ত পরিবেশ হবে আমার অন্যতম কাজের ক্ষেত্র। শৈলকুপার প্রতিটি ঘরে যাতে মা বোনেরা নিরাপদ থাকেন, প্রতিটি মা বোনেরা যাতে পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে পারেন, মেয়েরা যাতে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হন, তার যথাযথ ব্যবস্থা আমি নেব। বিএনপির পরিকল্পনা মোতাবেক প্রতিটি গৃহকর্তীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করণের মাধ্যমে মাসিক ভাতা স্বচ্ছতার সাথে বন্টন করা হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য। ধর্মীয় শিক্ষা একজন মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে অনবদ্য ভূমিকা রাখে। সে লক্ষ্যে শৈলকুপার মসজিদ, মন্দির, গীর্জা সহ সকল উপাসনালয় হবে আমার কর্মকান্ডের অন্যতম ক্ষেত্র। এর বাইরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য আমার কর্মসূচী হবে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভশীলতামূখী।
প্রিয় শৈলকুপাবাসী,
পরোপকারীতা এবং দূর্নীতিহীন জীবনই একজন মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। আমি সেই লক্ষ্যকে ধারণ করে অবিচল পথ চলছি। আমি আপনাদের আহবান জানাই, আপনি আপনার চারপাশের মানুষদের মাঝে এই মর্মে স্বপ্ন দেখান যে, স্বপ্নের শৈলকুপার জন্য, শিক্ষার মানউন্নয়নের জন্য, দূর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকার জন্য, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য এবং রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন থেকে মুক্রি লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ইং তারিখ ভোট কেন্দ্রে যেয়ে ধানের শীষে ভোট প্রদান করবেন। শৈলকুপায় সোনালী দিন আনার জন্য, নিরন্ন-ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাবার জন্য আপনাদের ভোট চাই, আপনাদের দোয়া চাই, পাশে চাই সবাইকে। মনে রাখবেন আমি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির লোক নই, আমি শৈলকুপার সকল মানুষের লোক।
আমি চাই. “এই বলে মোর নাম খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক”
আপনাদের সবাইকে নিরন্তর শুভেচ্ছা এবং বিনয়াবনত শ্রদ্ধ।
মোঃ আসাদুজ্জামান
প্রার্থী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬
৮১, ঝিনাইদহ-১,শৈলকুপা।