জনতার ঢলে উত্তাল ঝিনাইদহ—ডা. শফিকুর রহমান বললেন, ‘দেশের টাকা চুরি করলে পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে বের করা হবে’
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
Update Time :
Monday, January 26, 2026
/
স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। ২৪ শে যেমন বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ঠিক তেমনি ভাবে ২৬ শেও ভোটের মাধ্যমে দেশে বিপ্লব ঘটাতে হবে। যদি কেউ রাজনৈতিক লেবাস পড়ে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এদেশে আর ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে আসতে দেওয়া হবে না।
জামায়াতের আমির সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠে এক বিরাট নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর।
জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান আরো বলেন, ৫ আগষ্টের পর ঝিনাইদহে নাকি চাঁদার রেট বেড়ে গেছে। যারা চাঁদাবাজী করেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। কারণ একজন মানুষ খেটে খেটে টাকা উপার্জন করেন, আর আপনারা তাতে ভাগ বসান। চাঁদাবাজদের ভিক্ষার পরামর্শ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন চাঁদাবাজী হারাম, কিন্তু ভিক্ষা হারাম নয়।
ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজী করা হতো। এতে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাড়িয়েছি। কেউ আবার আসতে চাইলে রুখে দেব। কারণ স্ত্রী তার স্বামী, মা তার সন্তান হারিয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জগদ্দল পাথরকে সরিয়েছে।জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নিজে সম্পদ বৃদ্ধি করবো না, বরং ক্ষমতায় গেলে দেশের জনগনের সম্পদ বৃদ্ধি করবো। দেশের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করা হবে। দেশে চিরতরে চুরি বন্ধ করা হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমানিত করতে চাই না, শিক্ষিত যুবকদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তুলে মর্যাদার কার্ড হাতে তুলে দিতে চাই। ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি, উন্নত যোগাযোগের জন্য রেললাইন ও জেলার নদী খনন করে বহুমুখি কাজে লাগাতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নে কোন বৈষম্য থাকবে না। ইনসাফ কায়েক করে মানুষের পাশে সর্বক্ষন থাকবে।
জামায়াতের আমির ঝিনাইদহ জেলাকে সবচে বড় শহিদী দরগাহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই জেলায় জালিম শাকদের হাতে সোহানের মতো করুণ যুবকরা খুন হয়েছে। হত্যার পর তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। আমি খুন হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকতে চাই।