
লেখক- শেখ কবিরুল ইসলাম
কমল বহু জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়ে দিয়ে ক্লান্ত। ঢাকা শহরে টিউশনি করে এবং বন্ধুর মামার বাড়ি দেখভাল কয়ে কোনোরকমে দিনাতিপাত করছিল। আর দশজন মানুষের মতো সেও ভালোবেসে সংসার করতে চেয়েছিল। কিন্তু নিয়তি তাকে বাদসাথে। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই মজুমদার এন্ড মজুমদার কোম্পানি লিমিটেডে পুঁথি সংগ্রাহশালায় চাকরি পায় সে। কিন্তু তার কাছে কেন যেন মনে হতে থাকে তাকে টার্গেটি করেই চাকরিটা দেওয়া হয়েছে। সে তখন উপলহি করতে খাতে এদেশ একসময় জমিদারদের বিয়ন্ত্রণে ছিল। তারা বাসের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতো। অমতা চিরস্থায়ী করতে তারা বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র করতো। পুঁথি সংগ্রহশালায় পুঁথির মাধ্যমে জমিদারদের এই দুরভিসন্ধির কাহিনী পাড় আরও সে নিশ্চিত হয় যে, জমিদারদের বংশধরেরা এখনও থেমে নেই। তারা তাদের ক্ষণপদ প্রসারিত করার সুযোগ খুঁজছে। সেই থেকেই তায় এগিয়ে চলা। অবশেষে একসময় সে বুঝতে পারে কেন তারা কমলকেই নিয়োজিত করেছে চাকরিতে। নিয়তিই এর জন্য দায়ী। নিয়া’ত তাকে এতদূর এগিয়ে এনেছে।
তাই সে পুনর্জন্ম লাত করে এই পৃথিবীতে এসেছে। তার দ্বারা তাদের টাদশ্য হাসিলের সমস্ত রাস্তা সে বন্ধ করে দিতে বদ্ধপরিকর। প্রায় পুরো উপন্যাসটিই কারো না কারো স্মৃতি কাতয়ায় এগিয়ে চলে, উঠে আসে কমলের নিয়তি নির্ধারিত রহস্যময় সময়ের অদ্ভুত পরিণতি। এই উপন্যাসের নায়ক কোনো বাক্তি নয়- সময়। এই সময়ের এক সংবেদী রূপকার, শক্তিমান কথাশিল্পী শেষ কবিরুল ইসলাম তাঁর অনুপম সজীব নির্বিকল্প গদ্যে বিবিধ আখ্যানের আলোকে এঁকেছেন বিরাট একসময়ের ছবি, স্বর পরিসরে নিয়ে এসেছেন বিশাল ব্যাপ্তি। জাদু বিস্তারি বর্ণনায় তিনি সাজিয়েছেন মানুষের নিভৃত ও অন্তর্নিহিত ি সেই সঙ্গে এঁকেছেন অস্থিমজ্জায় জাগরুক মানুষের মনোজাগতিক অস্তিত্বকে, আমরা প্রতিনিয়তই তার গন্ধ পাই, আলো পাই, পদ শুনি। আসুন প্রিয় পাঠক, আমরাও ‘তাঁর সঙ্গে সময় পরিভ্রমণ করি প্রকাশক নিয়তি ”