October 29, 2026, 1:34 am
শিরোনাম:
সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘মব’ করে ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল। এনসিপির হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আহ্বায়ক হলেন হামিদ পারভেজ মিয়া,সদস্য সচিব মোঃ সাইদ হোসেন। ৫৪ তম মৃতুবার্ষিকী স্মরণে ঝিনাইদহে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ভাস্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন। শৈলকুপার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন  ভূমি অফিসে দালাল ছাড়া মেলে না সেবা, বঞ্চিত ভূমি মালিকরা; রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার মাগুরার শ্রীপুরে সাংবাদিকের জমির গাছ তুলে নিল দুর্বৃত্তরা লংমার্চ সফল করতে ঝিনাইদহের মধুহাটিতে জামায়াতের মিছিল ও আলোচনা সভা। অ্যাডভোকেট মাসুম খানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মোহাম্মদপুরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ। মনাকষা সীমান্তে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ”পরিচালনা শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবি। শৈলকূপায় ডোপ টেষ্টে ২ জনের শরীরে প্রমাণ পাওয়া গেল মাদকের। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ নুর আলমের শুভেচ্ছা।
Notice :
শৈলকুপায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভ্রূম্যমান আদালতের অভিযান: ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা!… ঝিনাইদহে ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই কথিত সাংবাদিক আটক” শৈলকূপা উপজেলা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভুয়া আনসার সদস্য দিয়ে পূজা মন্ডপের ডিউটি চলমান। মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৫নং ফুলহরি ইউনিয়ন সুব্রত দধি মিষ্টি ভান্ডারে মিষ্টি বাকি না দেয়ার কারণে সুব্রত উপরে ও তার মায়ের উপরে হামলা! ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ম/রদে/হ উ/দ্ধার দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা কুষ্টিয়ার লালন শাহ ব্রিজের পিলারের সাথে ট্রলারের ধাক্কা লেগে শৈলকু/পার দুইজন সহ তিনজন নিখোঁজ। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের ৬৬% ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৭৫% পদ ফাঁকা অবশেষে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঘুষখোর কর্মকর্তা মুন্তাছির বদলি।

চট্টগ্রামে ঈদের নাস্তায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে সেমাই, ঐতিহ্য, স্বাদ ও দামের চিত্র

Reporter Name

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে খাবার আয়োজন। চট্টগ্রামে ঈদের দিন ঘরে ঘরে অতিথি আপ্যায়নের ধারা এখনো অটুট। আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর বাসায় গিয়ে খালি মুখে ফিরে আসা যেন কল্পনাই করা যায় না। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নানা ধরনের নাস্তার আয়োজন করেন সবাই।
ঈদের সকালের টেবিলে সাধারণত থাকে সেমাই, শাহী টুকরা, ফিরনি, জর্দা, পরোটা ও গরু বা মুরগির ভুনা, পুরি-আলুর দম, ডিম ভাজি বা অমলেট, চিকেন ফ্রাই বা নাগেটস, শামী কাবাব, স্যান্ডউইচ, নুডলস বা পাস্তা, ছোলা ভাজা, খেজুর, ফলের সালাদ, দই, জুস—সাথে চা, কফি কিংবা ঠান্ডা শরবত। তবে এত কিছুর মধ্যেও ঈদের ঐতিহ্যের কেন্দ্রে থাকে সেমাই।

সেমাই: ঐতিহ্যের মূল আকর্ষণঃ
চট্টগ্রামে ঈদ আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে সেমাইয়ের কদর এখনও অটুট। বিশেষ করে দুই ধরনের সেমাই বেশি জনপ্রিয়—লাচ্ছা সেমাই ও বাংলা (চিকন) সেমাই।
লাচ্ছা সেমাই সাধারণত ঘিয়ে ভাজা অবস্থায় থাকে। এতে গরম দুধ, চিনি, বাদাম ও কিশমিশ মিশিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায়। অন্যদিকে বাংলা বা চিকন সেমাই রান্নার আগে হালকা আঁচে ঘিয়ে ভেজে নিতে হয়, তারপর দুধ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে রান্না করতে হয়।।স্বাদের দিক থেকে ভিন্নতা থাকলেও দুই ধরনের সেমাইয়েরই আলাদা কদর রয়েছে। এছাড়া সেমাই দিয়ে জর্দা, বাসবুসা বা বাকলাভার মতো আইটেমও তৈরি করা হয়।

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে লাচ্ছাঃ
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। এর প্রধান কারণ হলো—সহজ প্রস্তুত প্রণালী ও কম ঝামেলা। অন্যদিকে চিকন সেমাইয়ের চাহিদা তুলনামূলক কমে গেছে।
একসময় হাতে তৈরি খোলা সেমাইয়ের বেশ কদর ছিল। কিন্তু এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেটজাত সেমাই বাজার দখল করে নিয়েছে। বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী বাজারে আসায় ছোট কারখানাগুলোর সংখ্যা কমে গেছে।
চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকায় একসময় ৩৫টির বেশি সেমাই কারখানা থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১৫ থেকে ২০টিতে নেমে এসেছে। বাকলিয়া, রাজাখালী, খাতুনগঞ্জ, মাদারবাড়ি প্রভৃতি এলাকায় এখনো কিছু কারখানায় চিকন সেমাই উৎপাদিত হয়।

বাজারে দামের চিত্রঃ
চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২০০ গ্রাম প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই: ৪০–৪৫ টাকা, ২০০ গ্রাম চিকন সেমাই: ৪০–৪৫ টাকা, ঘি ও কিশমিশযুক্ত প্যাকেট: ১৪০–১৫০ টাকা, খোলা চিকন সেমাই: প্রতি কেজি ১০০–১৫০ টাকা, খোলা লাচ্ছা সেমাই: প্রায় ১৫০ টাকা প্রতি কেজি, উন্নতমানের ব্র্যান্ডেড প্যাকেট (২৫০–৪০০ গ্রাম): ২৫০–৪০০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় সেমাইয়ের দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকন সেমাইয়ের দাম সামান্য বেড়েছে।

চাহিদা কমার কারণঃ
ব্যবসায়ীদের মতে, আগের মতো এখন আর সেমাইয়ের চাহিদা নেই। একসময় বড় পরিবারগুলো কয়েক কেজি সেমাই কিনত, এখন তা অনেক কমে গেছে। আধুনিক খাদ্যাভ্যাস, বিভিন্ন নতুন আইটেমের সংযোজন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে সেমাইয়ের ব্যবহার কিছুটা কমেছে।
তবে সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়—ঈদের দিনে চট্টগ্রামে সেমাই এখনো একটি অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য। নানা পরিবর্তনের মধ্যেও অতিথি আপ্যায়নের টেবিলে সেমাই তার স্থান ধরে রেখেছে, বিশেষ করে সহজ ও সুস্বাদু হওয়ায় লাচ্ছা সেমাইয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন আরও বাড়ছে।



error: Content is protected !!