
মোঃ আশিকুর সরকার (রাব্বি)
রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধিঃ
যেখানে কাটার কথা ছিল রোগের প্রেসক্রিপশন, সেখানে আজ পুড়ছে হেরোইন আর গাঁজার কলকি। যে দেয়ালে টাঙানো থাকার কথা ছিল স্বাস্থ্য সচেতনতার বাণী, সেখানে জমেছে পলেস্তারা খসা অন্ধকার। কুড়িগ্রামের বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এখন আর কোনো নিরাময় কেন্দ্র নয়, বরং স্থানীয়দের কাছে এক আতঙ্কের নাম। অবহেলা আর প্রশাসনের উদাসীনতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এখন মাদকসেবীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের চারপাশ লতাগুল্মে ঢেকে গেছে। দিনের বেলাতেও ভবনের ভেতর গা ছমছমে পরিবেশ। কক্ষগুলোর ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে যত্রতত্র পড়ে থাকা সিরিঞ্জ, দিয়াশলাইয়ের কাঠি, ওষুধের খালি পাতা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে এখানে কোনো ডাক্তার বা নার্সের দেখা মেলে না। অথচ সন্ধ্যা নামলেই এলাকাটি সচল হয়ে ওঠে ভিন্ন রূপে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মাদকসেবীরা এখানে ভিড় জমায়। রাতভর চলে নেশার আড্ডা ও অসামাজিক কার্যকলাপ। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ছিল এই কেন্দ্রটি। বর্তমানে এটি বন্ধ থাকায়:,গর্ভবতী মায়েরা সাধারণ চেকআপের জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন। শিশুরা টিকাদান কর্মসূচি ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠী সামান্য জ্বরের ওষুধটুকুও পাচ্ছে না। ”আমাদের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি এই হাসপাতাল। অথচ আজ আমাদেরই এখানে ঢুকতে ভয় লাগে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলায় চুরির ভয় আর রাতে মাদকসেবীদের উপদ্রব—আমরা কি কোনোদিন এখানে ডাক্তার পাব না?কস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানা হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকায়। চুরি, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে দিতেও এখন আতঙ্কিত বোধ করেন।