
অনলাইন নিউজ ডেস্ক
১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শৈলকুপার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে ইছহাক হোসেনকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ইছহাক হোসেন দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আব্দুল হাকিম আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই সময়ে এলাকায় হামলা, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, সালিশ বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের মতো নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইছহাক হোসেন নিজের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন এবং নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তোলা বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলেছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে তাকে আনার চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বা পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
বিএনপির আদর্শ ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হলে সুবিধাবাদী ও অনুপ্রবেশকারী সাবেক আওয়ামী লীগের এই ক্যাডারদের দূরে রাখাই সময়ের দাবি। তবেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সুদিনের সুবাতাস বইবে।