
মহিতোষ বিশ্বাস, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুরে ৫০ টাকার প্রলোভনে এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ২৯ জুলাই বিকেলে নাকোল ইউনিয়নের ঘাসিয়ারা বেপারিপাড়া মসজিদ মাঠে খেলাধুলা করার সময় ভুক্তভোগী শিশুকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি আলি আকবর জোয়ারদার (৫৮) ২য় শ্রেণির ঐ শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই শিশু ও তার পরিবার।
এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার কথা জানায় ভুক্তভোগী শিশু। এঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়ালে নাকোল ক্যাম্প পুলিশ অভিযুক্ত আলি আকবর জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে শ্রীপুর থানায় সোপর্দ করে। আটককৃত আলি আকবর জোয়ারদার ঘাসিয়ারা বেপারীপাড়া জামে মসজিদের সাবেক সভাপতি এবং একই গ্রামের বেপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আলেপ জোয়ারদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে নিজ বাড়িতে দুই শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আলি আকবর জোয়ারদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি নিয়ে রাতে একটি সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত আলি আকবর জোয়ারদারের বিচারের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার জানান, ইতিপূর্বেও ভুক্তভোগীর বড় বোনের সাথেও একই অপকর্ম করেছিলেন। ভয়ভীতি দেখানোয় কে বিষয়টি জানায়নি তখন। কিন্তু আমার ছোট মেয়ের এই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সেও আমাকে পুর্বের ঘটনা জানিয়েছে। আমি এই আলি আকবর জোয়ারদারের কঠিন বিচার চাই।
এ বিষয়ে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘটনার পর বুধবার সন্ধ্যায় আলি আকবর জোয়ারদারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত আলি আকবর জোয়ারদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ওলি মিয়া জানান, ২৯ জুলাই বুধবার বিকালে ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিক নাকোল ক্যাম্প পুলিশ একজনকে আটক করে শ্রীপুর থানায় সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তার নামে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা হয়। যার শ্রীপুর থানার মামলা নং-১৭, আসামিকে বিচারের নিম্মিত্তে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।