মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারিকেলবাড়ীয়ায় অবস্থিত আমেনা খাতুন কলেজে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে একাদশ, ডিগ্রি ও অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
আমেনা খাতুন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ (পান্নু)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব মর্যাদা) জনাব মোঃ রাশেদ খাঁন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আকতারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সাজেদুর রহমান পাপ্পু, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন এবং সহ-সভাপতি মোঃ বিল্লাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমেনা খাতুন কলেজের প্রভাষক আল মামুন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মহিদুজ্জামান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোঃ তৌফিকুর রহমান, ১৪ নম্বর ঘোড়শাল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইসহাক আলী মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোফাজ্জল হুসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুন্সি সেক্তারুল ইসলাম, ১৪ নম্বর ঘোড়শাল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুন্সি মোঃ শফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আহম্মদ হোসেন মিঞাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা আমেনা খাতুন কলেজের মনোরম পরিবেশ, বিশাল ক্যাম্পাস, সবুজ বনায়ন ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, শুধু ঝিনাইদহ জেলাতেই নয়, আশপাশের প্রায় ১০ জেলার মধ্যেও এত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের বড় ক্যাম্পাস খুব কমই দেখা যায়। লেখাপড়ার পরিবেশ, ফলাফল ও সার্বিক কর্মকাণ্ডের দিক থেকেও কলেজটি প্রশংসার দাবিদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ রাশেদ খাঁন নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই এখন থেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা রিলস দেখতে গিয়ে যেন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানুষকে আলোকিত করে এবং শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের আলোর পথ দেখান। তাই শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি বাবা-মায়ের কথা শুনতে হবে। বাবা-মা ও শিক্ষকরা সবসময় সন্তানের কল্যাণ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কাজ করেন। জীবনে যত বড় কর্মকর্তা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই হোন না কেন, শিক্ষকদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরাই একজন মানুষের জীবনের ভিত্তি গড়ে দেন। তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করার আয়োজনের প্রশংসা করে মোঃ রাশেদ খাঁন বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সুন্দর সম্পর্কের সূচনা হলো, আশা করি শিক্ষাজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই বন্ধন অটুট থাকবে। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং ভালোভাবে পড়াশোনা করে বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান করার পাশাপাশি নিজেদের সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব মর্যাদা) জনাব মোঃ রাশেদ খাঁনের কাছে আমেনা খাতুন কলেজকে জাতীয়করণের দাবিও জানান। জবাবে প্রধান অতিথি বলেন, এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তিনি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। আমেনা খাতুন কলেজের উন্নয়ন ও জাতীয়করণের দাবির বিষয়টিও যথাযথভাবে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি কলেজটির সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।