September 22, 2026, 3:39 am
শিরোনাম:
রংপুর বিভাগের খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। দাগনভূঞায় বৈদ্যুতিক মিটার বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে লন্ডন প্রবাসীর ৮০০০০ টাকা অনুদান। ভূল্লী উপজেলা প্রেসক্লাবের কমিটি প্রকাশ , সভাপতি নুর নবী,সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইকলাচুর রহমান মিঠু। মাগুরায় গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন ১০ একর জমি, হুমকিতে ৫০০ পরিবার। এলাকার প্রধান সড়ক যেন মরণফাঁদ: হিয়ারিংয়ে সংস্কারের জোর দাবি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কালিগঞ্জে ২ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ১ ইউপি সদস্য সহ ৩ নারীর মৃত্যু মুক্তাগাছায় এসএসসি, দাখিল ও কারিগরী পরীক্ষা-২০২৬ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। সেবারহাটে ‘MENZO’ শপের নতুন আউটলেটের জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধন শিশু সাজিদুর রহমানের ৭ম জন্মদিন উদযাপিত।
Notice :
ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ম/রদে/হ উ/দ্ধার দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা কুষ্টিয়ার লালন শাহ ব্রিজের পিলারের সাথে ট্রলারের ধাক্কা লেগে শৈলকু/পার দুইজন সহ তিনজন নিখোঁজ। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের ৬৬% ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৭৫% পদ ফাঁকা অবশেষে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঘুষখোর কর্মকর্তা মুন্তাছির বদলি। হরিনাকুন্ডু উপজেলার কালসংকরপুর গ্রামে মোলাম হোসেন মেম্বারকে কু*পি*য়ে হ*ত্যা কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর | কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হা’ম’লা অভিযোগ ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পুকুর থেকে সরকারী বালক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আরাবীর মৃ*ত*দেহ উদ্ধার অভিনন্দন! স্পেন ফুটবল দলকে যোগ্য দল হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার জন্য এবং ফিলিস্তিনের পাশে থাকার জন্য।

মাগুরায় গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন ১০ একর জমি, হুমকিতে ৫০০ পরিবার।

মহিতোষ বিশ্বাস, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:

 

মহিতোষ বিশ্বাস, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও অন্তত ২০ একর জমি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের প্রতিরক্ষামূলক বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বেড়িবাঁধের অবশিষ্ট অংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে কোদলা গ্রামের অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে গড়াই নদীর পাড়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকেই চোখের সামনে বছরের পর বছর চাষ করা জমি নদীতে হারিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন বর্তমানে বেড়িবাঁধের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। ইতোমধ্যে বাঁধের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন ঠেকানো না গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

কোদলা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী মোকাররম আলী বলেন, নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। আমাদের এলাকার অনেকের জায়গাজমি ছিল। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে। বাঁধ আর দুই হাত ভাঙলে আমাদের থাকার মতো কিছু থাকবে না।

একই গ্রামের অনিতা রাণী বলেন, বিয়ের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই গ্রামে বসবাস করছি। একসময় এখানে মানুষ চাষাবাদ করত, গরু-ছাগল বাঁধত, ছেলেরা মাঠে খেলত। ধীরে ধীরে সব নদীর মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

কোদলা গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, রাতে ভয় হয়। ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। সবসময় আতঙ্কে থাকি—কখন যে নদী বাড়ির দিকে চলে আসে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা নয়, গড়াই নদীর ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে টেকসই বাঁধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গড়াই নদীর শ্রীপুরের কয়েকটি অংশে ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমলসার-কোদলা এলাকায় নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ ওই এলাকায় দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, আমলসার ইউনিয়নের কোদলা এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেখানে কাজ করার অনুমতি পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু ফসলি জমি নয়, বসতভিটাসহ গ্রামের একটি বড় অংশ গড়াই নদীর গর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই বেড়িবাঁধ রক্ষা ও নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।



error: Content is protected !!