স্টাফ রিপোর্টার,
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলের বলয় বদলের খেলা। বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা এখন নিজেদের রক্ষা করতে বিএনপির ছত্রছায়ায় ভিড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা-মামলার শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে ঢাকার এক যুবদল নেতার গাড়ি কান্ডে কালীগঞ্জের চারজনের নাম আসাসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় দলের তৃণমূল ক্ষুব্ধ।
এরই ধারাবাহিকতায় শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ইছহাক হোসেনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইছহাক হোসেন জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. আব্দুল হাকিম আহমেদ এবং মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সালিশ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অতীতের ছবি মুছে ফেলেছেন।
বর্তমানে তাকে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্বে বসানোর চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন উঠলে বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মনোহরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা ১৭ বছর রাজপথে লড়াই করেছি। সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। হাই কমান্ড ব্যবস্থা না নিলে দলের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হবে।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইছহাক হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ৯০ শতাংশই মিথ্যা। অতীতে আমি বিএনপির সমর্থনে ইউপি সদস্য নির্বাচন করেছি। কোনো অপরাধমূলক কাজে যুক্ত ছিলাম না, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”