
স্টাফ রিপোর্টার:
পাবনার আমিনপুর থানার রানীনগর ইউনিয়নের বস্তাল এলাকায় এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। “তাছাড়া, যুবকের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বস্তা সেলাইয়ের সুঁই ফুটিয়ে জখম করা হয়েছে।” আহত যুবকের নাম মোঃ নাজমুল (পিতা: মোঃ নজরুল খান), তিনি উপজেলার ভূরকুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আহাম্মদপুর দক্ষিণ চর গ্রামের বিএনপি নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ জিন্নাহ (পিতা: সোহরাব সরদার), তার ছেলে ইমরান এবং সহযোগী রিপনসহ একদল দুর্বৃত্ত এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারধরের শিকার নাজমুল বিবাহিত। জিন্নাহ মেম্বারের দাবি অনুযায়ী, নাজমুলের সাথে তার বিবাহিত মেয়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক (পরকীয়া) রয়েছে। ঘটনার ১/২ দিন আগে নাজমুল জিন্নাহ মেম্বারের মেয়েকে ফোনে কল দিয়েছিলেন। এরই জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজমুলের ওপর এই হামলা চালানো হয়। তবে স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, জিন্নাহ মেম্বারের মেয়ের পক্ষ থেকেই নাজমুলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হতো এবং এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
আহত নাজমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে যুবলীগ করার অপরাধে জিন্নাহ মেম্বার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নাজমুলকে অন্যায় ও অমানুষিকভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, জিন্নাহ মেম্বার ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং নিরীহ মানুষকে অহেতুক মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও লুটপাট করে আসছেন।
মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নাকি তাকে কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সে বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।